
সেদিনের সেই রোপিত চারাটি
সেদিনের সেই রোপিত চারাটি
মো: কামরুজ্জামান শহীদ প্রভাষক, ইতিহাস বিভাগ
স্রোতসিনি মহানন্দার তীর ঘেষে উত্তর দক্ষিণে প্রলম্বিত বালিয়াঘাটা গ্রাম। এ গ্রামেই রাজ প্রাসাদসম ভবনে আব্দুল গোফুর বিশ্বাস ও সহধর্মিনী গুলজান বেগমের বাস। তাঁদের কোলজুড়ে ধরণীতলে এসেছিল ০৬টি পুত্র ও ০২টি কন্যা সন্তান। তাঁদের মধ্যে বড় ছেলে জনাব আলহাজ্ব মঞ্জুর আহম্মদ মিঞা।
তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী ও সৎ মনোভাবাপন্ন ব্যক্তি। যাঁর অবদানে তিনি এম.পি.এ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। খ্যাতি ও সুনাম ছিল গোটা দেশ জুড়ে। দেশ বিভাজনের পর ব্যবসার উন্নয়নে তিনি গ্রাম ছেড়ে রাজশাহী শহরে গিয়ে বসবাস করেন। কিন্তু মাতৃভূমিকে কখনও তিনি ভুলে থাকতে পারেন নি। শিকড়ের টানে বার বার ফিরে এসেছেন মাতৃভূমে আর চিন্তা করেছেন কি করে অত্র এলাকার উন্নয়ন করা যায়।
স্বাধীনতা পরবর্তী ভঙ্গুর দেশ, চতুর্দিকে শুধুই হাহাকার, এক মুঠো খাবারের অন্বেষণায় মানুষ এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছোটাছুটি করছে। মানুষের চোখেমুখে তখন ক্ষুধার ছাপ। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মত মৌলিক চাহিদার ছিলনা কোন পূর্ণতা। ঠিক এমনি এক ভয়াল মুহুর্তে ১৯৭১ এর এই দিনে রোপিত করেছিল সেই চারাটি।
পিতামাতার যোগ্য সন্তান হিসেবে তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় উৎসর্গ করেছিলেন এ চারাটির নাম। যা গুল গোফুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নাম ধারণ করে কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেদিন যদি এ চারাটি রোপিত না হতো তবে অত্রাঞ্চলের নারী শিক্ষার বিকাশ ঘটত না। সেদিন তিনি নারী শিক্ষার অগ্রজ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন বলেই গরীব দুঃখী, মেহনতী মানুষের মেয়েরা পান্তা খেয়ে লেখাপড়ার করার সুযোগ পেয়েছে।
সেদিনের সেই চারাটি ফুলে ফলে সুশোভিত হয়ে ১৯৯৫ সালে মহাবিদ্যালয়ে রূপলাভ করেছে। যা আজ গুল-গোফুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় নাম ধারন করে অত্র এলাকার নারী শিক্ষার মাইল ফলক হিসেবে কাজ করছে। মহাবিদ্যালয়ে রূপলাভের পর আমি এ মহাবিদ্যালয়ে ০৫/১০/১৯৯৫ সালে প্রভাষক পদে যোগদান করি। বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের সুনাম চতুর্দিকে বিরাজমান। দেখতে দেখতে সে দিনের চার্যাট ৪০ বছরে পা রাখছে, আর তাই তো ৪০ বছর পূর্তি উৎসব পালন হতে যাচ্ছে বলে নিজেকে একজন প্রভাষক হিসেবে ধন্য মনে করছি।
যাঁরা প্রতিষ্ঠালগ্নে কার্যকরী কমিটিতে নিরলস পরিশ্রম দিয়ে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রেখেছেন এবং শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত হয়ে দিনরাত সময় ব্যয় করে প্রতিষ্ঠানকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তাঁদেরকে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।
পরিশেষে সেদিনের রোপিত চারাটি ফুলে ফলে আরো সুশোভিত হউক এ কামনা করে এবং যাঁদের নামে উৎসর্গ এ চারাটি, সেই বিদেহী আত্মার এবং প্রতিষ্ঠাতা প্রধান দাতা আলহাজ্ব মঞ্জুর আহম্মদের সহধর্মিনী হালিমা মঞ্জুরের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এখানেই আমার কলম তুলে নিচ্ছি।
