সম্পাদকীয় নিবেদন

মানব সভ্যতার অগ্রগতি ও বিকাশ সাধনে শিক্ষার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। শিক্ষা ছাড়া মানব জীবন অন্ধকার। আর তাই, শিক্ষার আলো জ্বালানোর মহৎ কাজে যুগে-যুগে যাঁরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, তাঁরা স্মরণীয়, বরণীয় ও নন্দিতমানুষ হিসেবে ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ী স্থান লাভ করেন। মানুষ শিক্ষিত ও সংস্কৃতিবান হলে তার জীবনবোধ ও জীবনাচারণ মানবিক মূল্যবোধের চেতনায় নতুন মাত্রা যুক্ত করে। সেখানে জ্ঞানচর্চা ও সংস্কৃতি সাধনার সমন্বয় হলে মনুষ্যত্মের মহিমা আবিষ্কৃত হয়।
সেই চিরকালীন মহিমা আবিষ্কারে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলাধীন বালিয়াঘাট্টা গ্রামে ১৯৭১ সালের জানুয়ারি মাসে পিতা-মাতার নামকে জনজীবনে স্মরণীয় করে রাখার অভিপ্রায়ে অভিজাত বংশের সন্তান শহর জীবন ছেড়ে গ্রামীণ জীবনের পটভূমিকায় একবারে অজপাড়াগাঁয়ে সুবিধাবঞ্চিত, চিরঅবহেলিত ও দ্বীন-হীন মানুষের জীবনে বিশেষত নারীদের জীবনে শিক্ষার আলো প্রজ্জ্বলনের জন্য দৃঢ়প্রত্যয়ে জনাব মো. কামারুজ্জামান মিয়া প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারী হিসেবে গুল-গোফুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সেই সময় তাঁর পিতা-মাতার প্রচুর অর্থসম্পদ এবং বিশেষত তাঁর বড় ভাই বিশিষ্ট সমাজহিতৈষী, সমাজসেবক ও রাজনীতিক আলহাজ্ব মঞ্জুর আহম্মেদ জমিক্রয় ও ভবন নির্মাণে আর্থিক সহায়তা দান। করেন। সেইসঙ্গে তাঁর অন্যান্য ভাইবোন এবং গ্রামবাসীর সাহায্য-সহযোগিতা, সৎ পরামর্শ ও অকুন্ঠ সমর্থন এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। যাঁদের অর্থ সাহায্যে, শ্রমে-ঘামে এই মহান প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং বিগত ৪০ বছর ধরে অত্র অঞ্চলে নারী শিক্ষা বিস্তারে ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানের প্রশংসনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বা অবদান রয়েছে এবং আজ আমোদের জীবনে আলো ঝলমল ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। সেই ইতিহাসের বরপুত্র মহানায়কদের অনন্য অবদানের কথা আজ আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে বারবার স্মরণ করছি এবং তাঁদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
গুল-গোফুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর পূর্তি উৎসব আয়োজনকে সফল, সুন্দর, সার্থক ও নান্দনিক করার কাজে যাঁরা আর্থিক সাহায্য ও সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতিও রইলো আমাদের শ্রদ্ধা ও অকৃত্রিম ভালোবাসা। বিশেষ করে উৎসবের সম্মানিত প্রধান অতিথি, রাজশাহী-১ আসনের (গোদাগাড়ী-তানোর) মাননীয় সংসদ সদস্য, দেশনন্দিত জননেতা আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরীর কাছে আমরা আশেষ ঋণে আবদ্ধ। তাঁর কাছে আমদের বিনীত নিবেদন তিনি অনুগ্রহপূর্বক এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের দিকে বিশেষ মহানুভব দৃষ্টি দিবেন এবং সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের চেষ্টা করেবেন। আমরা আশা করি, তাঁর সার্বিক সাহায্য ও সহযোগিতা পাবো। সেইসঙ্গে অন্যান্য বিশেষ অতিথিবৃন্দকেও আমরা আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালবাসা জানাচ্ছি।
৪০ বছর পূর্তি উৎসবকে সফল ও সুন্দর করার জন্য আমাদের গ্রামের বিশেষত তিনজন কৃতীসন্তান ও খ্যাতিসম্পন্ন গুণীমানুষ বিশেষভাবে আর্থিক সহায়তা দান করেছেন। তাঁরা হলেন- ড. এফ.এইচ আনসারী, আলহাজ্ব মিজানুর আহম্মেদ এবং আলহাজ্ব মো. ফজলুর রহমান। এছাড়াও আরো যাঁরা নানাভাবে সাহায্য ও সহযোগিতা করেছেন তাঁদের কথাও আমাদের মনের গভীরে অমোচন কালিতে লেখা থাকলো।
সবচেয়ে আনন্দ ও গৌরবের কথা, এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর পূর্তি উৎসবকে ইতিহাসের পাতায় কালের সাক্ষী করে রাখার নিমিত্তে একটি তথ্যসমৃদ্ধ ও আকর্ষণীয় ‘স্মারকপত্র’ প্রকাশিত হলো- এ জন্য আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি। এই স্মারকপত্র প্রকাশনায় যাঁরা লেখা দিয়ে, অর্থ দিয়ে, বিজ্ঞাপন দিয়ে, শ্রম দিয়ে এবং পরামর্শ দিয়ে সার্বিক সহায়তা দান করেছেন, তাঁদের সবাইকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও ফুলেল শুভেচ্ছা। সেইসঙ্গে এই স্মারকপত্রে অনিচ্ছাকৃত ভুল-ভ্রান্তির জন্য আমরা সুধীজন, গুণীজন ও বিদগ্ধ পাঠকের ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
পরিশেষে বলবো, গুল গোফুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর পূর্তি উৎসবকে কেন্দ্র করে আমাদের বালিয়াঘাটা গ্রামসহ আশেপাশের গ্রামের অগণিত মানুষের জীবনে ঘরে ঘরে আনন্দধারা প্রবাহিত হচ্ছে। এই আনন্দধারায় জ্ঞানের ও প্রজ্ঞার আলো আমাদের অত্র অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের জীবনে প্রতিনিয়তই প্রবহমান নদীর গতির মতোই সঞ্চালিত হোক এবং প্রতিটি মানুষের জীবন ফুলে ফুলে সুশোভিত হোক- আজ এইমাত্র প্রার্থনা। বিনম্র-
সম্পাদনা ও প্রকাশনা উপকমিটি,
প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর পূর্তি উৎসব
গুল-গোফুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়
বালিয়াঘাটা, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।
২১ মে ২০১১/০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮
